সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই
সিলেট-সুনামগঞ্জে পাথর উত্তোলন

পরিবেশগত ভারসাম্য যাচাই ও জরিপে কমিটি গঠন

  • আপলোড সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ১১:৫৪:০৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ১১:৫৪:০৪ অপরাহ্ন
পরিবেশগত ভারসাম্য যাচাই ও জরিপে কমিটি গঠন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারিগুলো ‘পরিবেশ বাঁচিয়ে’ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। পরিবেশগত ভারসাম্য যাচাই ও জরিপ করতে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিবেশ আইন মেনে ও যন্ত্রের বদলে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা হবে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। জানা গেছে, দেশে গেজেটভুক্ত পাথর, সিলিকা বালু, নুড়িপাথর ও সাদা মাটি মহালের সংখ্যা ৫১টি। এর মধ্যে ১৭টির ইজারা স্থগিত রাখে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। তখন থেকে বন্ধ রয়েছে সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি, লোভাছড়া, রতনপুর, উৎমা ও শ্রীপুর এবং সুনামগঞ্জের বালুমিশ্রিত পাথরমহাল ধোপাজান ও ফাজিলপুর। তবে বর্তমান সরকার নতুন করে জরিপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জরিপের পর ‘পরিবেশ বাঁচিয়ে’ পাথরমহাল খোলার সিদ্ধান্ত হবে। গত বৃহস্পতিবার ‘সিলেট বিভাগের পাথর ও বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয়’ বিষয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ভার্চুয়ালি অংশ নেন। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কোয়ারিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, খনিজ স¤পদ আইন এবং বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে কোথায় সীমিত আকারে পাথর উত্তোলন করা যেতে পারে, তা নির্ধারণে একটি সমন্বিত জরিপ চালানো হবে। তিনি বলেন, ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষিত জাফলংসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলো এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে। এসব অঞ্চল বাদ দিয়ে অন্যান্য স্থানে নিয়ন্ত্রিতভাবে কোয়ারি ইজারা দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। ‘পরিবেশ বাঁচিয়ে’ পাথর উত্তোলনের উদ্দেশ্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জানা গেছে, কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পানি স¤পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, খনিজ স¤পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক এবং দুই জেলার পুলিশ সুপার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সদস্য করা হবে। প্রয়োজনে কমিটি আরও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। ‘পরিবেশ বাঁচিয়ে’ পাথর আহরণ বা উত্তোলনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সিলেটে পরিবেশবাদী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল করিম চৌধুরী কিম। গত শুক্রবার তিনি বলেন, বোমা ও মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন করা হয়। এসব যন্ত্রে কেবল পরিবেশ বা প্রকৃতি ধ্বংস হয়নি, বরং শ্রমিকদের প্রাণহানিও ঘটিয়েছে। শাহ আরেফিন টিলা নামক এলাকায় একের পর এক শ্রমিকের প্রাণহানির অন্যতম কারণ ছিল এটি। কিন্তু এর প্রতিকারে পাথরমহাল বন্ধ বা শ্রমিকদের কর্মহীন থাকা কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা চাই, পাথর আহরণ বা উত্তোলনে যেন যন্ত্র বসানো না হয়। সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন প্রকৃতি বা পরিবেশের জন্য হুমকি নয়। তিনি জানান, যে কমিটি সার্ভে করবে, সেই কমিটিতে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিদের যুক্ত রাখা উচিত। গত বছরের ২৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সভাপতিত্বে দেশের গেজেটভুক্ত পাথর, সিলিকাবালু, নুড়িপাথর, সাদা মাটি মহালগুলোর ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত এক সভায় পরিবেশ সংকটাপন্ন বিবেচনায় ১৭টি মহালের ইজারা দেওয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাথরমহাল এলাকায় পরিবেশ বিধ্বংসী তৎপরতা ও যন্ত্রচালিত পাথর উত্তোলন বন্ধ করতেই ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। সরকারের এ নির্দেশনায় পাথর মহালসংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে। পাথর উত্তোলন ও পরিবহনে জড়িত শ্রমিকরা বিপাকে পড়ে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ে বারকি ও পাথরশ্রমিকরা। অন্তর্বর্তী সরকারের এ নির্দেশনা বাতিলের দাবিতে তখন বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ সর্বদলীয় রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ওঠে। বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। জাতীয় নির্বাচনেও পাথরসংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে প্রকাশ পায় পাথরমহাল খোলার দাবি। ‘পাথররাজ্য’ খ্যাত নির্বাচনি এলাকা সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর প্রতিশ্রুতিও ছিল পাথরমহাল খুলে দিয়ে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স